মুখের খুশকি বা সেবোরিক ডার্মাটাইটিস
মুখের খুশকি, যা সেবোরিক ডার্মাটাইটিস নামেও পরিচিত। এটি ত্বকের
একটি বিরক্তিকর এবং বিব্রতকর অবস্থা। এটি শুষ্ক এবং মাঝে-মাঝে চুলকানির সৃষ্টি করে।
বিশেষ করে ভ্রু, নাকের চারপাশে এবং মাথার ত্বকে। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের
সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ। বেশ কয়েকটি ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে যা মুখের খুশকি
উপশম করতে সাহায্য করতে পারে-
উপকরন-
- টি ট্রি অয়েল
- নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল
ব্যবহার-প্রনালী- টি ট্রি অয়েল যা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি
বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলের মতো ক্যারিয়ার অয়েলের সাথে
কয়েক ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে অপেক্ষা করে প্রায় ১৫/২০
মিনিট পরে ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে ২/৩ দিন ব্যবহার করা যাবে।
উপকরন-
- অ্যালোভেরা
ব্যবহার-প্রনালী- অ্যালোভেরার রয়েছে প্রশান্তিদায়ক এবং নিরাময়
বৈশিষ্ট্য। আক্রান্ত স্থানে তাজা অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে অপেক্ষা করে প্রায় ১৫/২০ মিনিট
পরে ধুয়ে নিতে হবে। এটি প্রদাহ এবং শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে।
উপকরন-
- আপেল সিডার ভিনেগার
- পানি
ব্যবহার-প্রনালী- আপেল সিডার ভিনেগার এবং পানি ১:১ অনুপাতে মিশিয়ে
তুলোর বল ব্যবহার করে আক্রান্ত স্থানে কয়েক মিনিটের জন্য লাগিয়ে রাখতে হবে। এরপর ধুয়ে
নিতে হবে। এটি ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ এটি পাতলা না করে ব্যবহার
করলে এবং দীর্ঘক্ষন ত্বকে লাগিয়ে রাখলে, ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে।
উপকরন-
- মধু
ব্যবহার-প্রনালী- মধুর রয়েছে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল
বৈশিষ্ট্য। আক্রান্ত স্থানে মধুর পাতলা স্তরে লাগিয়ে রাখতে হবে। এবং ধুয়ে ফেলার আগে
১০/১৫ মিনিটের জন্য রাখতে হবে।
উপকরন-
- ওটমিল
ব্যবহার-প্রনালী- ওটমিল ত্বককে এক্সফোলিয়েট এবং প্রশমিত করতে সাহায্য
করে। পানির সাথে ওটমিল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে নিতে হবে। এরপর
১৫/২০ মিনিট অপেক্ষা করে স্ক্রাবিং করে হালকা হাতে ঘষে ধুয়ে নিতে হবে।
উপকরন-
- দই
ব্যবহার-প্রনালী- দইয়ে রয়েছে প্রোবায়োটিক যা ত্বকের প্রাকৃতিক
ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। আক্রান্ত স্থানে দই লাগিয়ে ১৫/২০ মিনিটের জন্য রেখে
এরপর ধুয়ে নিতে হবে।
উপকরন-
- নারকেল তেল
ব্যবহার-প্রনালী- নারকেল তেল হলো প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার যার রয়েছে
প্রদাহ বিরোধী বৈশিষ্ট্য। আক্রান্ত স্থানে অল্প পরিমাণে লাগিয়ে আলতো করে ম্যাসাজ করে
নিতে হবে। এটি ধুয়ে ফেলার আগে কয়েক ঘন্টা রেখে দিতে পারেন।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা- মুখ পরিষ্কার রাখা এবং হালকা ক্লিনজার
দিয়ে আলতো করে মুখ ধুয়ে ফেলা। খুব জোরালোভাবে স্ক্রাবিং এড়িয়ে চলা।
ডায়েট এবং লাইফস্টাইল- ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য ত্বকের
স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। ধ্যান বা যোগব্যায়ামের মতো কৌশলগুলির মাধ্যমে চাপ
কমানোর চেষ্টা করা।
এছাড়াও-
- অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকা।
- গরম পানি ব্যবহার না করা।
- অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা।
মনে রাখবেন যে, পৃথক-পৃথক ত্বকের কারণে এক ব্যক্তির জন্য যা কাজ
করে তা অন্যের জন্য কাজ নাও করতে পারে। নতুন কিছু ব্যবহার করার আগে প্যাচ পরীক্ষা করা
গুরুত্বপূর্ণ। ঘরোয়া প্রতিকার সত্ত্বেও যদি মুখের খুশকি অব্যাহত থাকে বা খারাপ হয়ে
যায়, তাহলে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের
সাথে পরামর্শ করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে চিকিৎসক ঔষধযুক্ত ক্রিম, শ্যাম্পু বা অন্য কোন
উপযোগী চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারে।
আরও পড়ুন- কি কারনে চুল পড়ে


No comments:
Post a Comment