Breaking

Saturday, 2 December 2023

৪০ বছরের মহিলাদের পরিবর্তন

৪০ বছরের মহিলাদের পরিবর্তন

মহিলাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এবং ৪০ বছর বয়সে বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় এবং হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এসময়ে সে খুব বেশি বৃদ্ধ না, আবার তরুণও না।তবে সমস্ত মহিলার একই ধরনের পরিবর্তন নাও হতে পারে। ৪০ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে ১০টি শারীরিক পরিবর্তন যা স্বাভাবিকভাবে ঘটে-

৪০ বছরের মহিলাদের পরিবর্তন

অনিয়মিত মাসিক- পেরিমেনোপজ যা সাধারণত ৩০-এর দশকের শেষের দিকে বা ৪০-এর দশকের প্রথম দিকে শুরু হয় এবং অনিয়মিত মাসিক চক্র দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এসময় পিরিয়ড তাড়াতাড়ি বা দেরিতে হতে পারে। কিছু-কিছু সময়ে খুব বেশি এবং কোন-কোন মাসে আবার পিরিয়ড নাও হতে পারে। অনিয়মিত মাসিকের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

ওজন বৃদ্ধি- বয়সের সাথে সাথে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে। হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনের জন্য দায়ী করা হয়, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেনের হ্রাস। শরীর ইস্ট্রোজেনের বিকল্প চায়, যা চর্বিতে পাওয়া যেতে পারে। এই ইস্ট্রোজেন পরিবর্তনগুলি পেট, নিতম্ব এবং উরুর চারপাশে ওজন বাড়াতে পারে।

যদিও ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করা কঠিন। কিন্তু তারপরও ভালো থাকতে ব্যায়াম করতে পারেন। 

চুল পরা- পেরিমেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের কম উৎপাদনের কারণে চুলের ক্ষতি হতে পারে। এই হরমোনগুলো চুল দ্রুত গজাতে সাহায্য করে। যাইহোক, যখন ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনের মাত্রা কমে যায়, তখন চুল ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং পাতলা হয়ে যায়।

চুল পরা রোধ করতে করনীয়-

  • মানসিক চাপ দূর করতে নিয়মিত ব্যায়াম এবং যোগব্যায়াম করা।
  • চর্বিযুক্ত খাদ্য কমিয়ে সুষম খাদ্য গ্রহন। 
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
  • চুল পরা দূর করতে হেয়ার প্যাক সহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মেনে চলা।
  • হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার এবং কৃত্রিম রাসায়নিকের মতো হিট স্টাইলিং সরঞ্জামগুলি ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
৪০ বছরের মহিলাদের পরিবর্তন

ত্বকের পরিবর্তন- মেনোপজ ত্বককে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করে। কোলাজেনের উৎপাদন হ্রাস পায় এবং কোলাজেনের অভাবের কারণে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পায়। এই হরমোনের ওঠানামার কারণে ঘাড়, চোয়ালের লাইন এবং গালে ঝুলে যাওয়া, সেইসাথে সূক্ষ্ম রেখা এবং বলিরেখা হতে পারে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। স্কিনকেয়ার রুটিনে সানস্ক্রিন, এক্সফোলিয়েটিং পণ্য, ত্বক-লাইটনিং পণ্য এবং টোনার ব্যবহার করার পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন, যা ত্বককে ভেতর থেকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। 

কামশক্তি পরিবর্তন- ৪০ বছর বয়সে অর্থাৎ বয়স বাড়ার সাথে সাথে ইস্ট্রোজেনের মতো সেক্স হরমোন কমে যাওয়া স্বাভাবিক। হরমোনের এই পরিবর্তনের ফলে যোনি টিস্যুতে পরিবর্তন হতে পারে, যেমন শুষ্কতা এবং স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস। এরফলে যৌনতার সময় ব্যথা এবং সহবাসের সময় অস্বস্তি হতে পারে। লুব্রিকেন্ট এবং হরমোন থেরাপির সুপারিশ করা যেতে পারে। বা প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে পারেন।

হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস- বয়স বাড়ার সাথে সাথে মহিলাদের হাড়ের ঘনত্ব হ্রাস অর্থাৎ অস্টিওপরোসিসের ঝুঁকি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি গ্রহণ করার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহ হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

হরমোনের ওঠানামা- হরমোনের মাত্রা, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন, পেরিমেনোপজের সময় ওঠানামা করতে পারে, যা গরম ফ্ল্যাশ, মেজাজের পরিবর্তন এবং ঘুমের ধরণে পরিবর্তনের মতো লক্ষণগুলির দিকে পরিচালিত করে।

এ থেকে ভালো থাকার কিছু উপায়-

  • জীবনধারা পরিবর্তন করুন।
  • মানসিক অস্থিরতা দূর করে আরামে বা রিলাক্সে থাকার চেষ্টা করা। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগা করা। 
  • চিকিৎসকের পরামর্শে হরমোনের ওষুধ গ্রহন।

ধীর বিপাক- ইস্ট্রোজেন প্রিমেনোপজাল মহিলাদের মধ্যে বিপাক ক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করে। বিপাকীয় হার সঞ্চিত শক্তিকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে পরিণত করে। যখন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায় এবং শরীর চর্বি ধরে রাখতে শুরু করে এবং এই ধরে রাখা চর্বি প্রিমেনোপজাল বডি ফ্যাটনেসের সাথে যুক্ত।

মূত্রাশয়ের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া - বয়স বাড়ার সাথে সাথে মহিলাদের মূত্রাশয়ের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে থাকে। মহিলারা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তাদের মূত্রাশয়ের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। এসময় হাসি, ব্যায়াম, কাশি বা ভারী জিনিস বহন করার ফলে কয়েক ফোঁটা প্রস্রাব বের হতে পারে। হঠাৎ প্রস্রাব করার প্রয়োজনও হতে পারে। ইস্ট্রোজেন মূত্রাশয় এবং মূত্রনালী সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, মেনোপজের সময় পেলভিক পেশীগুলি ইস্ট্রোজেনের ক্ষতির কারণে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আর ইস্ট্রোজেনের মাত্রা মেনোপজের সময় এবং পরে হ্রাস পায়।

পেলভিক পেশী উন্নত করতে সাহায্য করার জন্য নিয়মিত পেলভিক ফ্লোর ব্যায়ামের সাথে জীবনধারা পরিবর্তন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। এছাড়াও-

  • কফি এবং অ্যালকোহল গ্রহণ কমিয়ে দিন।
  • দিনের নির্দিষ্ট সময়ে শুধু প্রস্রাব করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • মূত্রাশয় এবং পেশীগুলির উপর চাপ কমাতে ওজন হ্রাস করুন।

ভুলে যাওয়া- বয়স বাড়ার সাথে সাথে মহিলারা চিন্তা করার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং মানসিকভাবে ভালভাবে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। পেরিমেনোপজের সময় কম ইস্ট্রোজেনের মাত্রার কারণে এমনটা হতে পারে। মস্তিষ্কের এই সমস্যা দূর করার  কোনো বিশেষ উপায় নাই। তবে ব্যায়াম, পুষ্টি, ওষুধের মাধ্যমে ইস্ট্রোজেন হ্রাসের মতো অন্তর্নিহিত সমস্যা দূর করা যেতে পারে। 

মুড সুইং- কারণ ছাড়াই বিরক্ত এবং বিষণ্ণ হয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো পেরিমেনোপজের একটি উপসর্গ অনুভব করছেন যাকে বলা হয় মুড সুইং, অর্থাৎ মেজাজ দ্রুত পরিবর্তন। এসময় কখনও কখনও ভয়, উদ্বেগ বা রাগের চরম এবং অপ্রত্যাশিত অনুভূতির আকারে আসে। পেরিমেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরন হরমোনগুলি হ্রাস পেতে শুরু করে, যা মেজাজের পরিবর্তনের কারণ। গরম ফ্ল্যাশ মেনোপজ এবং পেরিমেনোপজের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ। এসময় ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে যা মেজাজের পরিবর্তনে অবদান রাখে।

মানসিক এই সমস্যা থেকে ভালো থাকার কিছু উপায়-

  • ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য গ্রহন।
  • যোগব্যায়াম, ধ্যান, বা ব্যায়াম করুন।
  • অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • পরিবার এবং প্রতিবেশীদের সাথে যোগাযোগ রাখুন।

কার্ডিওভাসকুলার পরিবর্তন- মহিলারা কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং রক্তচাপের পরিবর্তন অনুভব করতে পারে, যা কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্য, এবং নিয়মিত চেক-আপ হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪০ বছরের মহিলাদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা এবং শারীরিক সমস্যার  সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ। 

আরও পড়ুন- তৈলাক্ত ত্বকের ঘরোয়া নাইট ক্রিম

No comments:

Post a Comment