চুলের যত্নে তেলের ব্যবহার
চুল
ত্বকের বহিঃস্তরে অবস্থিত ফলিকল থেকে উৎপন্ন প্রোটিন তন্ত। চুলের প্রধান উপাদান
হলো কেরাটিন।
চুলের ধরন-
গঠন ও গুনাগুন অনুসারে মানুষের প্রধানত ৪ ধরনের চুল দেখা যায়। যেমন-
- সোজা বা স্ট্রেইট চুল
- ঢেউখেলানো বা ওয়েইবি চুল
- কোঁকড়া চুল
- কোমল চুল
তবে চুলের ধরন যেমনই
হোক না কেন সৌন্দর্য বজায় রাখতে ও চুল সিল্কি রাখতে প্রয়োজন চুলের যত্ন নেওয়া।
কারন চুল হলো নারী ও পুরুষের সৌন্দর্য বর্ধক।
বিভিন্ন প্রাকৃতিক বা হারবাল উপাদান তাদের সমৃদ্ধ গুণাগুণ দ্বারা চুলের গোড়া মজবুত করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। যেমন- ব্রাক্ষ্মী, আমলা, আমন্ড, অ্যালোভেরাযুক্ত তেল। তেল চুল পড়া বন্ধ করার জন্য অতি কার্যকরী উপাদান। তবে তেল ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। চুলের যত্নে ভালো মানের তেল ব্যবহার করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত তিনদিন নিয়ম করে তেল দিতে হবে। কারন তেল হলো চুলের প্রধান খাদ্য। তেল চুলকে করবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, ঘন কালো। এছাড়াও চুল পড়া কমিয়ে খুশকি দূর করতেও তেলের ভূমিকা অনীস্বীকার্য। তেলে বিভিন্ন হারবাল উপাদান মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন সমস্যা সমাধানের পরিপূর্ণ সমাধান।
চুলের যত্নে তেলের
ব্যবহার-
উপকরন- নারকেল তেল,
মেথি।
ব্যবহার- পদ্ধতি- চুলের
প্রয়োজন অনুসারে মেথি আর নারকেল তেল জ্বাল দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। চুলা থেকে নামিয়ে
হালকা গরম তেল চুল এবং মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে নিতে হবে। ১/২ ঘন্টা পরে শ্যাম্পু
করতে হবে। তবে চাইলে রাতে এভাবে তেল দিয়ে পরদিনও শ্যাম্পু করে নিতে পারেন। এতে চুল
পড়া বন্ধ হবে। কারন মেথি চুল পড়া বন্ধ করতে অতি কার্যকরী।
উপকরন- আমলকী, অলিভ
অয়েল।
ব্যবহার- পদ্ধতি- একটি
পাত্রে অলিভ অয়েল আর আমলকী থেতলে দিয়ে ১০/১৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। এই তেল চুলের
পেকে যাওয়া এবং চুল পড়া রোধ করে। এটি চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতেও সহায়ক।
উপকরন- পেঁয়াজ,
কারিপাতা।
ব্যবহার- পদ্ধতি-
পেঁয়াজ ছোট করে কেটে বা ব্লেন্ড করে নিয়ে এরসাথে সামান্য কারিপাতা এবং নারকেল তেল
দিয়ে ১০/১৫ মিনিট হালকা তাপে ফুটিয়ে নিতে হবে। চুলা থেকে নামিয়ে কিছুক্ষন পর হালকা
গরম তেল মাথার ত্বক এবং চুলে লাগাতে হবে। ক্লিনিকালই পরীক্ষিত যে চুলের নানা ধরনের
ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পেঁয়াজের রস দারুণ ভাবে কার্যকর। কারন পেঁয়াজ বিভিন্ন
পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ, যা চুলের গোড়া শক্ত করে
চুল পড়া রোধসহ আরও নানা সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখে।
উপকরন- জবা, নারকেল তেল।
ব্যবহার- পদ্ধতি- জবা
ফুল ব্লেন্ড করে নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে কিছুক্ষন জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। এরপর
ঠান্ডা করে চুল এবং মাথার ত্বকে ভালো করে ম্যাসাজ করতে হবে। এই তেল চুলের বৃদ্ধিতে
দারুন কার্যকর। এছাড়াও এই তেল চুলের আগা ফাঁটা কমাতেও ভূমিকা রাখে।
উপকরন- তুলসি পাতা, নিম
পাতা, মেথি, নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল।
ব্যবহার-পদ্ধতি- নারকেল
তেল বাদে বাকি সব উপকরন বেটে বা ব্লেন্ড করে নিতে হবে। মেথি ব্লেন্ড করার পূর্বে
পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর একটি পাত্রে সবগুলো উপকরন আর নারকেল তেল বা অলিভ
অয়েল মিশিয়ে চুলায় জ্বাল দিয়ে নিতে হবে। ১০/১২ মিনিট ধীরে-ধীরে জ্বাল দিয়ে চুলা
থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এই তেল ব্যবহারে খুশকি দূর হবে এবং চুল পড়া
সমস্যার সমাধান মিলবে।
উপকরন- কারি পাতা, নারকেল তেল।
ব্যবহার-পদ্ধতি- একটি পাত্রে নারকেল তেল নিয়ে তাতে কারি পাতা দিয়ে
জ্বাল দিতে হবে। ১০/১২ মিনিট ধীরে-ধীরে জ্বাল দিলে তেলের রং কালচে হয়ে গেলে নামিয়ে
ফেলতে হবে। এই তেল নিয়মিত ব্যবহারে চুল পড়া কমবে।
উপকরন- কালোজিরা, সরিষার তেল।
ব্যবহার-পদ্ধতি- কালোজিরা গুঁড়ো করে সরিষার তেলের সাথে মিশিয়ে হালকা গরম করে নিয়ে
চুলে এবং মাথার ত্বকে লাগাতে হবে। এই তেল সিল্কি চুলের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়াও
এই তেল চুলের বৃদ্ধির পাশাপাশি চুলকে কালো করতেও অত্যন্ত কার্যকরী।
উপকরন- রসুন, নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল।
ব্যবহার-পদ্ধতি- একটি পাত্রে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল নিয়ে তাতে থেঁতো করা বা ব্লেন্ড করা রসুন দিয়ে মৃদু আঁচে জ্বাল দিতে হবে। কিছুক্ষন পর তেলের রঙ বদলে গেলে নামিয়ে ঠান্ডা করে ব্যবহার করতে হবে এই তেল। এই তেল ব্যবহারের ফলে খুশকি দূর হবে। রসুনের সেলেনিয়াম মাথার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়াও রসুনে থাকা ভিটামিন সি এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান চুল পড়া কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
.png)
No comments:
Post a Comment