Breaking

Tuesday, 25 April 2023

ট্যান দূর ঘরোয়া উপাদানে

 

ট্যান দূর ঘরোয়া উপাদানে

সহজ কথায় ডি ট্যান কোষ এবং ত্বকের স্তূপ অপসারণের প্রক্রিয়া যা সূর্যের দ্বারা নির্গত দূষণ এবং বিকিরণের কারণে ট্যান হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্যানিং হলো একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া যেখানে ত্বক সূর্য রশ্মির কারণে মেলানিন তৈরি হয়। ট্যানের সঠিক যত্ন না নিলে ধীরে-ধীরে ত্বক পুড়ে যেতে পারে।

সাধারনত গরমে রোদে সূর্যের দ্বারা নির্গত দূষণ এবং বিকিরণের কারনে ট্যান পড়ে। এরফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়, কালচে ভাব দেখা যায়। এবং বলিরেখা পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে খুব তাড়াতাড়ি চেহারায় বয়সের ছাপ পড়ে। এছাড়াও মুখের সঙ্গে হাত-পায়েও এর প্রভাব পড়ে।

ত্বকে ট্যান যেমন খুব সহজে পড়ে তেমনি খুব দ্রুত আবার চলেও যায়। এর জন্য প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন। প্রতিদিনের একটু বাড়তি যত্ন আর সামান্য সাবধানতা থেকেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। 

ঘরোয়া উপায়ে ট্যান দূর-

উপকরন- বেসন, ত্রিফলার গুঁড়ো, হলুদ, গোলাপজল।
ব্যবহার-পদ্ধতি- একটি পাত্রে পরিমান মতো বেসন, ত্রিফলার গুঁড়ো ও হলুদ নিয়ে গোলাপজল দিয়ে এই মিশ্রণ তৈরি করে নিতে হবে। এই মিশ্রণ মুখে-হাতে গলা এবং ঘাড়ে ভালো করে লাগিয়ে নিতে হবে। ১৫/২০ মিনিট রেখে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।
উপকরন- নারকেল তেল বা কাঠবাদাম তেল, কফি গুঁড়া, চিনি ও লেবুর রস।
ব্যবহার-পদ্ধতি- নারকেল তেল বা কাঠবাদাম তেল, কফি গুঁড়া, চিনি ও লেবুর রস এই সবগুলো উপকরন একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণ দিয়ে ট্যান পড়া স্থানে লাগিয়ে নিয়ে হালকা হাতে ম্যাসাজ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করতে পারেন।
 
উপকরন- পাকা পেঁপে, মধু।
ব্যবহার-পদ্ধতি- পাকা পেঁপের সাথে মধু মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক ট্যান পড়া স্থানে লাগিয়ে নিয়ে হালকা হাতে প্রায় ১০ মিনিট ম্যাসাজ করে ১৫/২০মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পেঁপের এনজাইম ত্বকের কালো ভাব দূর করতে ভীষণ ভাবে কার্যকর।
উপকরন- মুসুর ডাল, অ্যালোভেরা, টমেটো।
ব্যবহার-পদ্ধতি- মুসুর ডাল ভিজিয়ে বেটে বা ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এরসাথে টমেটো ও অ্যালোভেরা ভালো করে মিশিয়ে বা ব্লেন্ড করে নিতে হবে। এই প্যাক ট্যান তোলার জন্য খুবই উপকারী।
উপকরন- ময়দা, হলুদ, কাঁচাদুধ, কমলার খোসা, গোলাপজল।
ব্যবহার-পদ্ধতি- ট্যান দূর করে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ করতে কমলার খোসা ব্লেন্ড বা গুঁড়ো করে এরসাথে ময়দা, হলুদ, কাঁচাদুধ, আর সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এই প্যাক মুখে লাগিয়ে ১৫/২০মিনিট পরে পানি দিয়ে ভিজিয়ে স্ক্রাবিং করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
উপকরন- শশার রস, লেবুর রস, গোলাপজল।
ব্যবহার-পদ্ধতি- সমপরিমান শশার রস, লেবুর রস এবং গোলাপজল একসাথে মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে রেখে ১০/১৫ মিনিট পরে শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। লেবুর রস প্রাকৃতিক ব্লিচের কাজ করে। এতে করে মুখের কালো ভাব দূর হবে। এবং ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল।
উপকরন- স্ট্রবেরি, দুধ।
ব্যবহার-পদ্ধতি- পেস্ট করা স্ট্রবেরির সাথে দুধ মিশিয়ে ট্যান পড়া স্থানে লাগাতে হবে। ২০/২৫ মিনিট পরে প্যাকটি শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এতে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। কালো দাগ দূর হবে। এছাড়াও ব্রণ সমস্যারও সমাধান হবে।

এছাড়াও গাজর ব্লেন্ড করে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট রেখে শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলতে হবে।এরফলে ট্যান পড়া দূর হবে। এভাবে আরও অনেক ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে ট্যান পড়া দূর করা যায়। ত্বকের ধরন বুঝে পছন্দ মতো প্যাক ব্যবহার করে ট্যান দূর করা সম্ভব। আর যেহেতু এগুলো হারবাল প্রোডাক্ট, তাই এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হবার সম্ভবনাও কম বা নাই বললেই চলে।


No comments:

Post a Comment