বায়োটিন কি এবং কাজ
বায়োটিন কি-
বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ ত্বকের গঠন উন্নত করে, পুনরুজ্জীবিত
করে ও ময়েশ্চারাইজড করে। এছাড়াও ত্বকে বার্ধক্যের বিভিন্ন লক্ষণ যেমন- বলিরেখা, কালো
দাগছোপ কমায়। কারণ বায়োটিন”বিউটি ভিটামিন” হিসেবে চুল, ত্বক ও নখ মজবুত রাখতে কাজ করে।
বায়োটিন কেন খাবো-
প্রতিদিনের পরিশ্রমে শরীরে প্রয়োজন পর্যাপ্ত
ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্যের। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্য তালিকায় অন্যান্য ভিটামিনের সাথে-সাথে
ভিটামিন বি৭ বা বায়োটিন রাখা অত্যন্ত জরুরী। কারণ এই ভিটামিন খুব সহজেই পানিতে গুলে
যায়। যার ফলে খাদ্যকে সহজেই শরীরের উপযুক্ত জ্বালানি বা শক্তিতে রুপান্তরিত করতে সাহায্য
করে।
বায়োটিনের উৎস-
- বায়োটিনের অন্যতম উৎস হলো ডিমের কুসুম। এছাড়াও-
- বিভিন্ন ধরনের সিডস বা বীজ যেমন- সয়াবিনের বীজ।
- বিভিন্ন ধরনের বাদাম। যেমন- চিনাবাদাম, কাজু বাদাম, আখরোট ইত্যাদি।
- বিভিন্ন প্রকারের মাছ, শাক, দুধ, কলা, টমেটো ইত্যাদি।
- বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ সমৃদ্ধ ব্রোকলি যেন অবশ্যই খাদ্য তালিকায় থাকে। কারণ এতে বায়োটিনের পাশাপাশি রয়েছে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ।
- খাবার ছাড়াও বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ ক্যাপসুল এবং ট্যাবলেট হিসেব খাওয়া যেতে পারে। তবে তা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে গ্রহন করা প্রয়োজন।
বায়োটিনের কাজ-
- বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ কার্বোহাইড্রেট, চর্বি এবং আমিষ বা প্রোটিন সংশ্লেষণ করে এনার্জি বা শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে এবং পরিপূর্ণ সুষম বিপাক ক্রিয়া সম্পূর্ণ করে।
- ভিটামিন বি৭ বা বায়োটিন কেরাটিন নামক প্রোটিন উৎপাদন করে ত্বক, চুল এবং নখের স্বাস্থ্য রক্ষায় শক্তি উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
- বায়োটিন বা ভিটামিন বি৭ শর্করার স্থিতিশীল মাত্রা বজায় রেখে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
- গর্ভাবস্থায় স্বাস্থ্যকর ভ্রুণের বিকাশ এবং স্নায়ুতন্ত্রের গঠনে বায়োটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- বায়োটিন স্নায়বিক কার্যক্রমেও সহায়তা করে।
- বায়োটিন মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য এবং মানসিক উন্নতির জন্য অত্যাবশ্যকীয়।
বায়োটিনের অভাবে যা হয়-
- ত্বকে লালচে র্যাশ দেখা যায় এবং চুলকায়।
- ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়।
- নখ নরম এবং ভঙ্গুর হয়ে যায়।
- ত্বক বিবর্ন বা ধূসর হয়ে যায়।
- মাংস পেশীতে ব্যথা হয়।
- শরীর বিষণ্ণতা এবং ক্লান্ত অনুভূতি হয়।
- বায়োটিনের ঘাটতির ফলে ডার্মাটাইটিস হতে পারে এবং চুল পড়তে পারে।
- বায়োটিনের অভাবে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত
১০০০ মাইক্রোগ্রাম বা এর চেয়ে বেশি বায়োটিন গ্রহন করলে সমস্যা নাই। কারণ বায়োটিন সহজেই
পানিতে দ্রবণীয় এবং এটি শরীর থেকে বের হয়েও যায় সহজে, তাই কোন ক্ষতি করে না। শরীরে
বায়োটিনের উচ্চমাত্রা কোন মারাত্মক বিষাক্ততার কারণ ঘটায় না।
.png)
No comments:
Post a Comment