চুলের যত্নে ভিটামিন
চুলের যত্নে কোন
ভিটামিন খাওয়া প্রয়োজন-
চুলের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন
ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার। এছাড়াও চুলের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে খাদ্য তালিকায় রাখতে
হবে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার। আবার ভিটামিন বি৭ এবং ভিটামিন বি১২ নতুন হেয়ার সেল বা চুলের কোষ গঠনে সাহায্য করে। এবং এর পাশাপাশি চুল পড়ার সমস্যা কমায়।
চুল পড়া বন্ধে কোন
ভিটামিন লাগাবেন-
ভিটামিন ই
ক্যাপসুল চুল
পড়া দূর করতে এবং নতুন চুল গজাতে অত্যন্ত উপকারী। সাধারণত চুলে যে তেল ব্যবহার করেন তাতেই মিশিয়ে নিতে হবে এই ই ক্যাপসুলে থাকা তেল। এবার এই তেল চুল ও মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে ২/৩ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলতে হবে, কুসুম গরম পানি ব্যবহার করলে বেশি ভালো। সপ্তাহে ২ দিন এই তেল ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।
চুল পড়া বন্ধ করতে
খাবার-
অনেকে আবার অতিরিক্ত চুল পড়া শুরু হলে দোকান থেকে ভিটামিন
ই-এর ট্যাবলেট কিনে খাওয়া শুরু করে দেন। কিন্তু শুধু ভিটামিন
ই ট্যাবলেট খেলে হবে না খেতে হবে ভিটামিন
ই যুক্ত খাবারও। বিভিন্ন ধরনের বাদাম, বিশেষ করে আমন্ড বা কাঠবাদাম, পুইশাক, পালংশাক, ধনেপাতা, ব্রকোলী, বাদাম তেল, জলপাইয়ের তেল, পেঁপে ইত্যাদি খাবারের মাধ্যমে
ভিটামিন ই-এর চাহিদা পূরণ করতে
হবে।
চুল পড়া বন্ধ করতে
কিছু প্যাক-
উপকরন-
- ভিটামিন ই ক্যাপসুল- ৭/৮ টি
- অ্যালোভেরার জেল- ২ টেবিল চামচ
ব্যবহার-প্রনালী- একটি পাত্রে
ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে তেল
বের করে নিতে হবে। এরসাথে অ্যালোভেরার জেল ভালো করে মিশিয়ে মসৃণ একটি মিশ্রণ তৈরি করে
নিতে হবে। এই মিশ্রণ চুল এবং মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে অপেক্ষা করতে হবে। প্রায় ৪০/৪৫
মিনিট পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
উপকরন-
- ভিটামিন ই ক্যাপসুল- ৪/৫ টি
- ডিম- ১ টি
- বাদাম তেল- ১ চা চামাচ
ব্যবহার-প্রনালী- একটি পাত্রে
ভিটামিন ই ক্যাপসুল কেটে তেল
বের করে নিতে হবে। এরসাথে ডিম ভালো করে ফেটে বাদাম তেল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে নিতে
হবে। এই মিশ্রণ পুরো চুল এবং মাথার ত্বকে লাগিয়ে অপেক্ষা করতে হবে। প্রায় ৪০/৪৫ মিনিট
পর শ্যাম্পু করে চুল ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
প্রাকৃতিক উপাদন শ্যাম্পু
হিসেবে ব্যবহার-
উপকরন-
- শিকাকাই- ৬/৭ টি
- রিঠা- ১৫/২০ টি
ব্যবহার-প্রনালী- চুলের প্রয়োজন
অনুযায়ী শিকাকাই এবং রিঠা থেকে বীজ বের করে নিয়ে রাতে
পানিতে ভিজিয়ে পরদিন একটি পাত্রে ভেজানো শিকাকাই এবং রিঠার বীজসহ পানি চুলায় অল্প আঁচে
সিদ্ধ করে নিতে হবে। প্রায় ১৫/২০ মিনিট জ্বাল দিলে ফেনা তৈরি হলে চুলা থেকে নামিয়ে
ঠান্ডা করে ছেঁকে নিতে হবে। প্রথমে চুলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর এই শ্যাম্পু
দিয়ে ধীরে-ধীরে চুল ঘষে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। চুল রুক্ষ হলে
রিঠা পরিমানে কম দিয়ে শিকাকাই বাড়িয়ে দিয়ে এই শ্যাম্পু তৈরি করে নিতে হবে।
প্রাকৃতিক শ্যাম্পুর উপকারীতা-
- চুলের গোড়া শক্ত এবং মজবুত হবে।
- চুল পড়া দূর করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
- কেমিক্যাল মুক্ত এই শ্যাম্পু চুলের ক্ষতি করবে না।
- এই শ্যাম্পু ব্যবহারের ফলে চুল প্রকৃতিক ভাবে স্ট্রেইট হবে।
- চুলকে ক্ষতিকারক খুশকি ও উকুন মুক্ত করবে।
- সহজলভ্য উপাদান এবং সস্তা মূল্যের।
- এই মিশ্রণটি একবার তৈরি করে প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করতে পারবেন।

No comments:
Post a Comment