শিশুর শুষ্ক ত্বকের যত্ন
ত্বকের
শুষ্কতা শিশুদের একটি বড় সমস্যা। যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে
পারে। এতে করে শিশুর ত্বক এবং ঠোঁট ফাঁটাসহ এলার্জি এবং চুলকানির মতো সমস্যার
সৃষ্টি হতে পারে। শিশুর ত্বক তাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের সাথে সম্পর্কিত এবং তাদের
স্বাস্থ্য ও সুন্দরতা সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শিশুর
শুষ্ক ত্বকের কারণ-
- আবহাওয়া জনিত কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- শিশুর ঘরের তাপমাত্রা স্থির রাখা। যাতে অত্যন্ত গরম বা অত্যন্ত ঠান্ডা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা।
- শিশুর এয়ার কন্ডিশনড রুমে থাকার ফলেও ত্বক স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে শুষ্ক হয়ে যায়।
- শিশুর ত্বকে এলার্জি বা অন্য কোন সমস্যা থেকে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- শিশুর পোষাক যাতে আঁটসাট না হয় এবং ত্বকের সাথে হালকাভাবে লেগে থাকে।
- পর্যাপ্ত পানি পান না করলে বা অসুস্থ্যতার কারণে ডিহাইড্রেশনের ফলে ত্বক শুষ্ক হতে শুরু করে।
শিশুর
ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে করণীয়-
- শিশুর ত্বক হাইড্রেট রাখতে বয়স অনুযায়ী পানি পান করানো।
- শিশুর ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে নিয়মিত ত্বকে তেল ম্যাসাজ করা। এতে শিশুর স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
- আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় শিশুর বাড়তি যত্ন নেওয়া।
- সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে শিশুর ত্বককে রক্ষা করতে প্রতিরক্ষামূলক পোশাক, টুপি, সানগ্লাস ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।
- শুষ্কতা দূর করতে বড়দের ক্রিম, লোশন বা প্রসাধনী ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
- শিশুদের হালকা কুসুম গরম পানিতে গোসল করানো। এবং পাশাপাশি হালকা গরম পানি পান করানো। এরফলে পানির ভারসাম্য বজায় থাকবে। এবং ত্বকে আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
- দীর্ঘসময় পানিতে গোসল করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তানাহলে শুষ্কতার পাশাপাশি ত্বকে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- শিশুর গোসলের পর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা। এবং দিনে অন্তত ২/৩ দিন বার ত্বক পানি দিয়ে ধুয়ে নরম তোয়ালা দিয়ে হালকা করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। এতে ত্বক শুষ্কতার হাত থেকে মুক্তি পাবে।
এছাড়াও
আরও কিছু নিয়ম অনুসরণ করে ত্বকের শুষ্কতা দূর করা যায়। যেমন-
- গোসলের আগে সরিষার তেল মালিশ করে কিছুক্ষন রোদে থেকে গোসল করার ফলেও ত্বকের শুষ্কতা দূর করা যেতে পারে।
- শুষ্কতা দূর করতে পানির পাশাপাশি ফলের জুস শিশুকে খাওয়ালেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।
- শিশুর শুষ্ক ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা ফুসকুড়ি হয়, যা একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো, তবে সেক্ষেত্রে শিশু বিশেষজ্ঞ বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে চিকিৎসা সেবা গ্রহন করতে হবে।
মনে
রাখবেন প্রতিটি শিশুর ত্বক অনন্য, যা একজনের জন্য কাজ করে তা অন্যের জন্য কাজ নাও
করতে পারে। সন্তানের ত্বকের নিরীক্ষণ করা এবং প্রয়োজন অনুসারে ত্বকের যত্নের রুটিন
করা অপরিহার্য। বাড়িতে যত্নের পরেও যদি শিশুর শুষ্ক ত্বক অব্যাহত থাকে, তবে একজন
পেশাদার বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।


No comments:
Post a Comment